পৃথিবীকে অবাক করা ৫ টি গ্যাজেট

 হ্যালো বন্ধুরা সায়েন্স এবং টেকনোলজির সম্পূর্ণ নতুন দুনিয়ায় আপনাকে স্বাগতম। আমি সুমন আছি আপনাদের সাথে, আর আজকের এই আর্টিকেলে আপনাদের পরিচয় করাতে চলেছি অদ্ভুদ ৫ টি টেক গ্যাজেটের সাথে। অ্যামেজিং কনটেন্ট এর জন্য আর্টিকেলটি শেষ পর্যন্ত পড়তে থাকুন। তো চলুন শুরু করি-



১. Apis Core

কনস্ট্রাকশন সবসময়ই ঝামেলার হয় এবং এটি টাইম কন্সুমিং প্রসেস। কিন্তু প্রযুক্তি অ্যাডভান্স হওয়ার সাথে সাথে কনস্ট্রাকশনেও এডভান্স প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। মার্কেটে সবচেয়ে পপুলার অ্যাক্টিভিটি হলো, থ্রিডি প্রিন্টারের সাহায্যে নতুন নতুন বিল্ডিং তৈরি করা হচ্ছে। কনস্ট্রাকশনের কাজের জন্য থ্রিডি প্রিন্টার একটি আমূল পরিবর্তন এনেছে। এপিস কোর এমন একটি থ্রিডি মোবাইল প্রিন্টার যেটি বিল্ডিং এর ভেতরে থেকেই কনস্ট্রাকশনের কাজ করতে পারে। এতে একটি রোটেটিং ম্যানুপুলেটিং আর্ম থাকে যেটি একটি সিঙ্গেল পয়েন্ট থেকে 32 স্কয়ার ফিট জায়গা জুড়ে প্রিন্ট করতে পারে। এটি খুবই ছোট একটি ইউনিট। যেটা ইনস্টলেশন এবং ট্রান্সপোর্টেশন খুবই সহজ। কাজ করার আগে এটি ইন্সটল করতে 30 মিনিটের বেশি সময় লাগে না।

এটির ডাইমেনশন হল ৪/১.৬/১.৫ মিটার এই মেশিনটির ওজন 2 টন। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো এটি কন্ট্রোল করতে দুই জনের বেশি লোক লাগে না। মেশিনটিতে প্রিন্টিং ম্যাটেরিয়ালস হিসেবে ফাইবার কংক্রিট এবং এক ধরনের সিমেন্ট কংক্রিট ব্যবহার করা হয়।

২. Helicopter Tree Trimming

এই হেলিকপ্টার ট্রি ট্রিমিং প্রসেসটি খুবই ফ্যান্টাস্টিক। এই প্রসেসের জন্য 10 টি একের পর এক সাজানো সার্কুলার ব্লেড ব্যবহার করা হয়। এই ডিভাইসটি মূলত ডিজেল চালিত। হেলিকপ্টার যখন উপরে উড়তে থাকে তখন এই ব্লেডগুলো গাছের শাখা-প্রশাখা কেটে দেয়। এই কাজটি করার জন্য হাই অ্যাকুইরেসি প্রয়োজন। কারণ হেলিকপ্টার এর নিচে বাঁধা ব্লেড কন্ট্রোল করা খুবি মুশকিলের কাজ। এ পদ্ধতিটি সাধারণত পাওয়ার লাইনের পাশে ব্যবহার করা হয়। যাতে গাছের ডালপালা পাওয়ার লাইন এর সাথে লেগে কোনো ধরনের দুর্ঘটনা না ঘটে।

3. Amazon Prime Air

2016 সালে অ্যামাজন সর্বপ্রথম ইংল্যান্ডে তাদের ড্রোন ডেলিভারি সার্ভিস চালু করে। ড্রোনের মাধ্যমে তারা তাদের ছোট ছোট প্রোডাক্টগুলো যেগুলোর ওজন 2 কেজি এর নিচে সেগুলো আধাঘন্টার মধ্যে ডেলিভারি করতো।

এই স্মার্ট ডেলিভারি ড্রোনে 8 টি প্রোপেলার থাকে। এবং একটি কম্পিউটারাইজড কন্ট্রোল সিস্টেম থাকে যেটি ড্রোনের একদম উপরের দিকে ইনস্টল করা থাকে। ড্রোন'টি 120 মিটার পর্যন্ত উপরে উঠতে সক্ষম এবং এটি ঘণ্টায় 80 কিলোমিটার বেগে চলতে সক্ষম। অ্যামাজন দিনের পর দিন তাদের ড্রোন ডেভলপমেন্ট করেই যাচ্ছে। অ্যামাজন কোম্পানি একটি ড্রন টাওয়ার তৈরি করছে যেখান থেকে ড্রোনগুলো উড়বে এবং ডেলিভারি শেষে সেখানে ফিরে আসবে।

4. Tesla

আমেরিকান কোম্পানি টেসলা যেটি ইলেকট্রিক্যাল যানবাহন বানানোর জন্য সারা পৃথিবীতে সুখ্যাতি অর্জন করেছে, এটি 2003 সালে স্থাপিত হয়। এই কোম্পানির নাম ফাদার অব ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অর্থাৎ ফিজিসিস্ট নিকোলা টেসলা এর নামে রাখা হয়েছে।

টেসলা কোম্পানি ইতিমধ্য চারটি ইলেকট্রিক কার লঞ্চ করেছে। সেগুলো হলো দি রোড স্টার, মডেল এক্স, মডেল এস ও মডেল থ্রি।

এরই সাথে কোম্পানিটি টেসলা সেমি নামের সবচেয়ে নিরাপদ এবং কম্ফোর্টেবল একটি ট্রাক বানিয়েছে 2017 সালে যেটি 2019 সালে লঞ্চ করা হয়।

টেসলার ক্রিয়েটরদের মতে গাড়ির ইন্টার্নাল কমবার্শন ইঞ্জিন একদম সরিয়ে ফেলা উচিত সর্বোচ্চ এনার্জি ইকোসিস্টেম পাওয়ার জন্য। কিছু কিছু কারের মডেলের সামান্য ডিফিসিয়েন্সি, ক্রিটিসিজম ও প্রোডাকশন লসের কারণে কোম্পানি এখনো অপারেট করছে এবং নতুন মডেলের ইলেকট্রিক কার লঞ্চ করছে।

5. Danyang Kunshan Bridge

এই অসাধারণ স্ট্রাকচারটি বেইজিং সাংহাই হাইস্পিড রেলওয়ের একটি অংশ। এটি পৃথিবীর সবচেয়ে লম্বা ব্রিজ যার জন্য এটির নাম গ্রিনিচ বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে উঠে এসেছে। এটি ১৬৮.৮ কিমি. দীর্ঘ। সুজুর ইয়ান চিয়াং লেকের ওপেন ওয়াটারের উপর এটির ৯ কিলোমিটার দীর্ঘ অংশ রয়েছে।

এই ব্রিজটি ওয়েস্টার্ন চায়নার নাঞ্জিং এবং সাংহাই সিটির মাঝে অবস্থিত এটির কনস্ট্রাকশন 2008 সালে শুরু হয় এবং খুব কম সময়ে 2011 সালে এটি উদ্বোধন করা হয়। এই ব্রিজটি তৈরির জন্য 10 হাজার শ্রমিক নিয়োগ করা হয়। এটির কাজ দুইটি শহরে একই সাথে শুরু হয়। ব্রজটি তৈরিতে 2.5 মিলিয়ন কিউবিক মিটার কংক্রিট এবং 500 হাজার টন স্টিল ব্যবহার করা হয়। এটির কাজ সম্পন্ন করতে আনুমানিক 8 থেকে 10 বিলিয়ন ডলার খরচ হয়।

Post a Comment (0)
Previous Post Next Post